বন্ধুরা বগা লেকের উৎপত্তির রহস্য জনক কল্পকাহিনী সম্পর্কে আমি গত পর্বে বলেছিলাম। সেখানে কাহিনীর মাঝখানে এসে থেমে গেছিলাম।
যারা আগের পর্ব পড়নি, তারা সেই পর্ব পড়ে আস। “আগের পর্ব” লেখাটিতে click করলে তোমরা আগের পর্বে যা কাহিনী লিখেছি, তা জানতে পারবে।
আগের পর্বে বলেছি, বগা লেকে আগে বাচ্চারা ও গবাদি পশুরা হারিয়ে যেতে থাকে। তখনও সেখানে লেকের সৃষ্টি হয় নি। সাহসী যুবকরা লুকিয়ে জানতে পারে যে, ওই ফানেল আকৃতির পাহাড়ের চুড়ায় “বগা” প্রাণীটির বাসা, যা দেখতে ড্রাগনের মত, আর এই বগাই বাচ্চা এবং গবাদি পশুদের খাচ্ছে।
আজকের পর্বে, আমি বাকিটুকু বলার চেষ্টা করব।
আগের কাহিনীর অবশ্য ভিন্ন একটি মতবাদও রয়েছে।
তাহলে চল ওই ভিন্ন মতবাদটি আগে জেনে নিই।
ওই ভিন্ন মতবাদ অনুযায়ী “বর্তমানে যেখানে বগা লেক অবস্থিত, সেখানে একদিন আকাশ থেকে নাকি নেমে আসে এক অদ্ভুত প্রাণী। এমন অদ্ভুত প্রাণীকে কখনই দেখেনি ওখানকার স্থানীয়রা। ওই প্রাণীটি শুধু অদ্ভুতই নয়, বরং ভয়ঙ্করও। এই অদ্ভুত প্রাণীটা যখন তখন মুখ দিয়ে আগুন বের করত। শুধু তাই নয়, তাদের ঘরবাড়ি, গাছপালা সব ওই আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিত।
চারদিকে থমথম পরিবেশ। সবাই ভয়ে তটস্থ। সবাই ভাবছে কি করা যায়। ওই প্রাণীটা কি প্রজাতির, তা কেও বলতে পারে না। তারা সেটাকে যেভাবে বর্ণনা করেছে, তার বিবরণ, ড্রাগন এর সাথে মিলে যায়। তখন তো তারা সেটা আর জানত না। তাদের মধ্যে কিছু পণ্ডিত এটাকে বগা নাম দেয়। অদ্ভুত প্রাণী, যেটা দেখতে ড্রাগনের মত, বম ভাষায় সেটাকে বগা বলা হয়।
ইতোমধ্যে ওই বগা ফানেল আকৃতির পাহাড়ের চূড়ায় তার আস্তানা গেঁড়ে তোলে। গ্রামপ্রধান সবার সাথে বৈঠক শেষ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে, প্রত্যেক দিন কিছু জীবজন্তুকে উপঢোকন হিসেবে পাঠাবেন ওই বগার কাছে। তো এভাবে ভালোই চলছিল দিনকাল।
কিন্তু এই দিনকাল কয়েকদিন পরেই কেমন জানি হয়ে গেল। সেখানকার বাচ্চারা নিখোঁজ হতে শুরু করে। ১মে এক গোত্রের লোক, অন্য গোত্রের লোকের উপর দোষ চাপাতে শুরু করে। কিন্তু পরে তারা বুঝতে পারল যে, প্রত্যেক গোত্রেরই কিছু না কিছু বাচ্চা নিখোঁজ হচ্ছে।
এবার সবার সন্দেহের তীর ওই বগার দিকে। বগা আসার পরেই এমন হচ্ছে। তাই সবাই বুঝতে পারল, ওই বগাই হয়তো বাচ্চাদের খেয়ে নিচ্ছে।
প্রত্যেক সম্প্রদায়কে একত্রে ডাকলেন ওখানকার গ্রামপ্রধান। প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে বেঁছে নেওয়া হলো শক্তিমান আর সাহসী যুবকদের। তাদের নিয়ে বাহিনী গঠন করা হলো। তীর, ধনুক, ঢাল, বল্লম, মশাল তৈরি করা হলো। সকলকে বলা হলো, যে করেই হোক ওই বদমাশ বগাকে মারতেই হবে। হয় ওই বগা মরবে, না হয় তোমরা মরবে, হুশিয়ারি দিলেন গ্রামপ্রধান। তাই প্রত্যেকে প্রাণপণে তৈরি হতে লাগলো যুদ্ধের জন্য।
তৈরি হওয়া শেষ। রাতের জন্য অপেক্ষা শুরু।
রাত ঘনিয়ে এলো। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। বগা তখন রাতের ভোজ শেষ করে ঘুমের দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই তো সুযোগ যুবকদের। রাতের আঁধারে হানা দিল সবাই বগার গুহায়। সেখানে পৌঁছে তারা দেখতে পায় বগা মজা করে ঘুমাচ্ছে।
আরও দেখতে পায় মানুষের মাথার খুলি, মানুষের হাড়, মানুষের রক্ত। তাদের আর বুঝতে বাকি রইলো না যে, ওই বগাই বাচ্চাদের মেরে মেরে খেয়েছে।
কোনোকিছু বুঝতে না দিয়ে সবাই একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওই বগার উপর। বগা এই অতর্কিত হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল না। ফলে সে কোনো বাধা দেওয়ার সুযোগই পেল না। আর তাই নিমিষেই যুবকেরা তাকে কুপোকাত করে ফেলল। সে না পারল আগুন বের করতে, না পারল সেখান থেকে পালাতে। অবশেষে মৃত্যুর কলে ঢলে পড়ল সে।
তবে মরার আগে মুখ দিয়ে সে তার জীবনের শেষ আগুনটুকু বের করল, যার ফলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ আর শব্দে থর থর করে কাপতে থাকল ফানেল আকৃতির পাহাড় আর তার তৈরি করা গুহাটা।
এর ফলে পাহাড় ভেঙ্গে সেখানে এক বিশাল গর্তের তৈরি হয়”।
আর এই গর্তটিই বর্তমানে বগা লেক নামে পরিচিত।
এটা ছিল বম উপজাতির ভাষ্যমতে পাওয়া তথ্য।
আবার খুমি নামক উপজাতির ভাষ্যমত এর থেকে পুরোপুরি আলাদা।
বন্ধুরা তোমরা কি খুমি উপজাতির সেই মতবাদটি জানতে চাও? অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবে।
আজ তাহলে এই পর্যন্তই থাক। পরের পর্বের জন্য কমেন্ট করে জানিয়ে দিও।
ধন্যবাদ সকলকে।
0 মন্তব্যসমূহ